ইশতেহারটি পাঁচ অধ্যায়ে বিন্যস্ত। আগামী পাঁচ বছরে বাস্তবায়নের জন্য ৫১টি কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি অগ্রাধিকার প্রতিশ্রুতি আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে। দলটি জানায়, জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, খালেদা জিয়ার ভিশন–২০৩০ এবং তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার ধারাবাহিকতায় এই রূপরেখা তৈরি।
বিএনপির ভাষ্য, স্লোগানের বদলে পরিকল্পিত কর্মসূচিই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি— উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, অধিকারভিত্তিক শাসন এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়াই লক্ষ্য।
৯ অগ্রাধিকার প্রতিশ্রুতি
১. ফ্যামিলি কার্ড: নিম্নআয়ের পরিবারকে মাসে ২,৫০০ টাকা বা সমমূল্যের পণ্য সহায়তা; ধাপে ধাপে পরিমাণ বাড়ানো।
২. কৃষক কার্ড: ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও রাষ্ট্রীয় বিপণন সহায়তা; মৎস্য ও পশুপালনও অন্তর্ভুক্ত।
৩. স্বাস্থ্যসেবা: এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ; জেলা ও মহানগরে মানসম্মত চিকিৎসা, মা–শিশু সেবা জোরদার।
৪. শিক্ষা: দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি; প্রাথমিক পর্যায়ে প্রযুক্তি সহায়তা ও মিড-ডে মিল।
৫. তরুণ ও কর্মসংস্থান: কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা, স্টার্টআপ সহায়তা, মেধাভিত্তিক নিয়োগ।
৬. ক্রীড়া: জেলা–উপজেলায় আধুনিক অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ।
৭. পরিবেশ: ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিমি নদী-খাল পুনঃখনন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
৮. ধর্মীয় সম্প্রীতি: উপাসনালয়ভিত্তিক ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণ ও প্রশিক্ষণ।
৯. ডিজিটাল অর্থনীতি: পেপাল চালু, ই-কমার্স হাব, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ রপ্তানি জোরদার।
ইশতেহারের ৫ অধ্যায় সংক্ষেপে-
১. রাষ্ট্র সংস্কার ও সুশাসন: গণতন্ত্র, আইনের শাসন, দুর্নীতি দমন, প্রশাসন–বিচার–পুলিশ সংস্কার, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ।
২. সামাজিক উন্নয়ন: দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা।
৩. অর্থনীতি পুনর্গঠন: বিনিয়োগ ও এফডিআই বৃদ্ধি, ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংস্কার, জ্বালানি, আইটি, ব্লু ও সৃজনশীল অর্থনীতি।
৪. আঞ্চলিক সুষম উন্নয়ন: চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী, উত্তরাঞ্চল–হাওর–উপকূলে আলাদা পরিকল্পনা, ঢাকার টেকসই নগরায়ণ।
৫. ধর্ম, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম: সম্প্রীতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; সঞ্চালনায় ছিলেন নজরুল ইসলাম খান। দলটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।