জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত বছর এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের বোনদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়।”
তিনি দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক বিভাজনের প্রসঙ্গে বলেন, “শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা বনাম রাজাকার বিভাজনের রাজনীতি তৈরি করে দেশকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন। কিন্তু '২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা এই বিভাজন অতিক্রম করে এগিয়ে গেছি।”
আন্দোলনের চরিত্র এবং উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল মর্যাদাভিত্তিক, বৈষম্য ও মাফিয়াতন্ত্রবিরোধী আন্দোলন। আমরা এমন একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য লড়াই করেছি, যেখানে থাকবে না কোনো শোষণ, বৈষম্য বা বঞ্চনা।”
তিনি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার প্রতি দলটির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি—যেখানে শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে।”
ভোলার বঞ্চনার বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, “যুগের পর যুগ ধরে ভোলার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত থেকেছে। আধুনিক যুগেও এখানকার জনগণ মৌলিক সেবা—চিকিৎসা, শিক্ষা ও গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমরা আজ এসেছি সেই দূরত্ব ঘোচাতে। ভোলাবাসীর সঙ্গে আমাদের কোনো দূরত্ব থাকবে না।”
ভোলার সম্পদ ব্যবস্থাপনার বৈষম্য তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভোলার গ্যাস সারা দেশে সরবরাহ হলেও এখানকার মানুষ নিজেরাই গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এখানকার হাসপাতালগুলো অকার্যকর। চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য এখানকার মানুষকে দূরে যেতে হয়। আমরা চাই, ভোলা হোক একটি স্বনির্ভর, মর্যাদাসম্পন্ন ও সমৃদ্ধ জেলা।”
সভাটি পরিচালনা করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, শহীদ হাসানের বাবা মনির হোসেন, যুবশক্তি নেতা অ্যাডভোকেট রাসেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সমন্বয়ক সালমা আক্তার, ফারজানা আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, ভোলা জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মেহেদী হাসান শরীফ, যুগ্ম সমন্বয়কারী ইয়াসির আরাফাত ও মাকসুদুর রহমান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন—দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্যসচিব মশিউর রহমান, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আক্তার মিতু এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিনসহ আরও অনেকে।