ভাষাসৈনিক, কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ আহমদ রফিক আর নেই। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১২ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আহমদ রফিক। স্ত্রীকে ২০০৬ সালে হারানোর পর তিনি নিউ ইস্কাটনের গাউসনগরের ভাড়া বাসায় একাই বসবাস করতেন। নিঃসন্তান এ লেখকের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল তার সমৃদ্ধ বইয়ের সংগ্রহ।
বাংলা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রাবন্ধিক ইতিহাসবিদ হিসেবে তিনি শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। রবীন্দ্রচর্চায় তার অবদান দুই বাংলাতেই সমাদৃত। কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি প্রদান করে। একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে বহু সম্মাননা পান তিনি।
২০১৯ সালে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হতে শুরু করলে অস্ত্রোপচার করানো হলেও আশানুরূপ ফল আসেনি। ২০২৩ সাল থেকে তিনি প্রায় দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন। এর আগে ২০২১ সালে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যেতে থাকে। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা আন্দোলনে অবদানের কারণে দেশের বুদ্ধিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরেই তার উন্নত চিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছিলেন।
জানা গেছে, মৃত্যুর আগে আহমদ রফিক নিজের মরদেহ ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল মেডিকেল কলেজে দান করে গেছেন।