রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক এসব দুর্ঘটনা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। এর আগে বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর শনিবার দিবাগত রাতে কুমিল্লার রেলক্রসিংয়ে বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে নেপথ্যের কারণ দ্রুত উদ্ঘাটনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক দফা কথা বলেছেন। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
কুমিল্লার দুর্ঘটনা তদন্তে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুটি কমিটি করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং একটি জেলা প্রশাসন। প্রতিটি কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অবহেলার অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও সিদ্ধান্ত আসবে।
এ ছাড়া ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিও শোক জানান তিনি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদের আনন্দঘন সময়ে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রতিটি জীবন অমূল্য এবং প্রতিটি মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, জননিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে; কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থায় দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।