জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদা বিষয়ক অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের ৩৮তম প্রতিবেদনে এ উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৪৭৪ (২০২৪) সনদের আওতায় প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের দিল্লির লাল কেল্লায় সংঘটিত হামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে একিউআইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী সেল গড়ে তোলার সংগঠনটির প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একিউআইএস বর্তমানে একটি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হচ্ছে। সংগঠনটি এখন বড় কোনো কেন্দ্রীয় কাঠামোর পরিবর্তে ছোট, বিচ্ছিন্ন ও বিকেন্দ্রীভূত সেল এবং নেটওয়ার্কের ওপর বেশি নির্ভরশীল। পাশাপাশি তারা নিজেদের লজিস্টিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের সামগ্রিক হুমকির মাত্রায় বড় পরিবর্তন না এলেও সাহেল অঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়েছে। তবে আল-কায়েদার শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে তুলনামূলকভাবে চাপে রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা সংগঠনটির রয়েছে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তের উত্তেজনার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ এখনো টিটিপিকে সহায়তা করে যাচ্ছে বলে ধারণা রয়েছে।
জাতিসংঘের মনিটরিং টিমের মতে, আফগানিস্তান থেকে সৃষ্ট সন্ত্রাসী হুমকি এখনো আগের মতোই রয়েছে। দেশটিতে একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতি প্রতিবেশী দেশ ও মধ্য এশিয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।
তালেবান কর্তৃপক্ষ ইসলামিক স্টেট খোরাসান (আইএসআইএল-কে)সহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও সামগ্রিক সন্ত্রাসী হুমকি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা সফল হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে সাহেল, সোমালিয়া, ইয়েমেন ও মধ্য আফ্রিকায় আল-কায়েদা এবং আইএসের বিভিন্ন শাখার কার্যক্রমের কথাও বলা হয়েছে। সাহেল অঞ্চলে জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়া আল-মুসলিমিন (জেএনআইএম) মালিতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রেটার সাহারায় ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে তাদের সংঘাতও বেড়েছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ ইয়েমেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আল-কায়েদা ইন দ্য এরাবিয়ান পেনিনসুলা (একিউএপি) নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। মধ্য আফ্রিকাতেও অ্যালাইড ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এডিএফ) তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা সম্প্রসারণ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থ সংগ্রহ এবং স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার অন্যতম কৌশল হিসেবে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের বিভিন্ন শাখা এখনো মুক্তিপণের বিনিময়ে অপহরণকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘের মনিটরিং টিম।