টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ছিল একেবারেই হতাশাজনক। মাত্র ২৮ রানেই চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। এমন চাপের মুহূর্তে হাল ধরেন জাকের আলী ও মেহেদি হাসান। দুজন মিলে পঞ্চম উইকেটে ৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে খাদের কিনারা থেকে তুলে আনেন।
মেহেদি ২৫ বলে ৩৩ রান করে আউট হলেও জাকের শুরুতে ধীর গতিতে শুরু করলেও শেষে চালিয়ে যান মারমুখী ব্যাটিং। ৫টি ছক্কা এবং ১ট চারে পূর্ণ ফিফটি পূর্ণ করার পর ইনিংস শেষ করেন ৫৫ রানে। শেষদিকে তার ব্যাটেই বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৩ রান, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের বোলাররা শুরু থেকেই চেপে ধরেন পাকিস্তানের ব্যাটারদের। প্রথম ওভারেই রানআউটের শিকার হন সাইম আয়ুব। এরপর শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত ইনসুইংয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন হারিস, আর ফখর জামান হন ক্যাচ আউট।
তানজিম হাসান সাকিব পরপর দুই বলে ফিরিয়ে দেন হাসান ও মোহাম্মদ নবাজকে—দুজনই শূন্য রানে ফেরেন। মাত্র ১৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধসে পড়ে পাকিস্তান। বোলিংয়ে টাইট লাইন-লেংথ ও আক্রমণাত্মক মনোভাবই জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
৪৭ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর একপ্রান্ত আগলে রেখে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন ফাহিম আশরাফ। রিশাদ হোসেনের এক ওভারে ২০ রান তুলে নাটকীয়তা তৈরি করেন তিনি। ৫২ রান দরকার ছিল শেষ ৫ ওভারে।
শরিফুলের বলে ছক্কা মেরে ফিফটি পূর্ণ করলেও পরের বলেই নিচু হয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন আশরাফ। শেষ ওভারে ১৩ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের, কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিংয়ে আশা শেষ হয়ে যায়। ড্যানিয়াল একবার বাউন্ডারি মারলেও শামিম হোসেনের ক্যাচে ধরা পড়লে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়।
📊 স্কোর সংক্ষেপ:
বাংলাদেশ: ১৩৩/১০ (জাকের ৫৫, মেহেদি ৩৩, মির্জা ২-১৭)
পাকিস্তান: ১২৫/১০ (আশরাফ ৫১, আফ্রিদি ১৯, শরিফুল ৩-১৭)
ফলাফল: বাংলাদেশ ৮ রানে জয়ী
সিরিজ: বাংলাদেশ ২–০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে