প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) ভিত্তিতে। এতে এপিএম টার্মিনালস টার্মিনালের নকশা, অর্থায়ন, নির্মাণ ও পরিচালনা করবে, তবে মালিকানা থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে। এ উদ্যোগ সরকারের মূলধনী ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে বলে জানা গেছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, এপিএম টার্মিনালস বিশ্বের ৩৩টি দেশ ও ৬০টিরও বেশি টার্মিনাল পরিচালনা করে। বিশ্বের শীর্ষ ২০টি বন্দরের মধ্যে ১০টির অপারেটর এই প্রতিষ্ঠান। ইউরোপ ও এশিয়াজুড়ে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিশ্বমানের প্রযুক্তি, দক্ষতা ও কার্যকারিতা যোগ করবে।
চুক্তি অনুযায়ী, এপিএম টার্মিনালস ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করবে—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় ইক্যুইটি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এলসিটি চালু হলে বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৮ লক্ষাধিক টিইইউ (TEU) বৃদ্ধি পাবে, যা বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি। টার্মিনালটি ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন লালদিয়া টার্মিনাল হবে দেশের প্রথম সবুজ ও স্মার্ট বন্দর। এটি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ আকারের জাহাজ ধারণ করতে পারবে এবং ২৪ ঘণ্টা রাতের নেভিগেশন সুবিধা থাকবে। এর ফলে বাংলাদেশের সাথে সরাসরি বৈশ্বিক শিপিং সংযোগ তৈরি হবে, রপ্তানি-আমদানি ব্যয় কমবে, এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্পের নির্মাণ ও পরিচালনা পর্যায়ে ৫০০ থেকে ৭০০ জনের সরাসরি কর্মসংস্থান এবং লজিস্টিকস, ট্রাকিং ও ক্ষুদ্র-মাঝারি খাতে কয়েক হাজার পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এছাড়া এপিএম টার্মিনালস আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিবেশনীতি অনুসরণ করবে এবং ডিজিটাল টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি প্রয়োগ করবে, যা স্থানীয় প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করবে।
দ্রুত জাহাজ টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম ও কম কনটেইনার ডওয়েল টাইম নিশ্চিত হওয়ায় রপ্তানিকারকরা আরও কার্যকরভাবে সরবরাহ দিতে পারবেন। আশিক চৌধুরী বলেন,“এই প্রকল্প কেবল অবকাঠামো বিনিয়োগ নয়, এটি বাংলাদেশের লজিস্টিক খাতকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে এবং রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন যুগের সূচনা করবে।”