আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সবকিছু ঠিক থাকলে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হতে পারেন দীর্ঘদিনের এই রাজনীতিক।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে বুধবার (১৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ২টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই সভায় রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। একপর্যায়ে কয়েকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চান।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, চিফ হুইপের বক্তব্যের পর কথা বলতে দাঁড়ান সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। স্মরণ করেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিএনপিতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো ভুল হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও সেই মর্যাদা ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবেন না বলেও জানান।
বঙ্গভবনে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি সবার কাছে দোয়া চান।
সংসদীয় সভায় উপস্থিত কয়েকজন এমপি জানান, কয়েক মিনিটের বক্তব্যের মধ্যেই চার থেকে পাঁচবার কেঁদে ফেলেন মির্জা ফখরুল। তার আবেগঘন বক্তব্যে পুরো সভায় নেমে আসে নীরবতা ও আবেগের পরিবেশ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির সংসদীয় দলের পরবর্তী বৈঠকে আর মির্জা ফখরুলকে এমপি হিসেবে দেখা যাবে না। তাই বিদায়ী বক্তব্যে সহকর্মীদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তাই যেন দিয়ে গেলেন বিএনপির এই প্রবীণ নেতা।