বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ২০২৪ সালের এই দিনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ তৎকালীন সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আবু সাঈদের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে আন্দোলন নতুন গতি পায় এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে যুক্ত হন। তিনি আবু সাঈদের পাশাপাশি শহীদ মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফারহান ফাইয়াজ, নাঈমা সুলতানা, রিয়া গোপ ও হৃদয় চন্দ্র তরুয়াসহ আন্দোলনে নিহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আহত প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবী, অভিভাবক, আলেম সমাজ, নারী, প্রবাসী, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আন্দোলনকে গণমানুষের আন্দোলনে পরিণত করেছিল। তাদের অবদানও ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, শহীদদের শুধু স্মরণ করলেই হবে না, তাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নেও কাজ করতে হবে। বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই তাদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন ছিল জনগণের প্রধান প্রত্যাশা। নির্বাচন হলেও বিচার ও সংস্কারের অনেক বিষয় এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। পরে এনসিপির নেতারা শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও ড. আতিক মুজাহিদসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন