বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান এপিবিএনের ডিআইজি (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পার্বত্য এলাকার মতো দুর্গম স্থানে জেলা পুলিশের তদন্তে সীমাবদ্ধতা থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী এপিবিএনকে এসব মামলার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। নতুন আইনে এ কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১৮ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় এপিবিএনের প্রায় ২ হাজার ২০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন একটি ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রস্তাব সরকারকে দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পে মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, নারী নির্যাতন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন আইনে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পৃথক সেল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরেও অপরাধ তদন্তে এপিবিএনের আইনগত বাধা নেই বলে জানান ডিআইজি। তবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিভিন্ন সংস্থা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করে কাজ করবে।
মতবিনিময় সভায় আগস্টের অভিযানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় ৭৮৪টি হারানো মুঠোফোন, তিনটি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, দুটি হোয়াটসঅ্যাপ, দুটি ই-মেইল ও একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। ৯৯৯-এর মাধ্যমে ৫৭২ জনকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিকাশ ও নগদ প্রতারণার ঘটনায় উদ্ধার হয়েছে ৭ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা।
মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ হাজার ৬৫২টি ইয়াবা, ৩ দশমিক ৪৯ কেজি গাঁজা, ৪৩ দশমিক ৭৫ লিটার মদ, ৩৮৭ কার্টন সিগারেট ও ২০৯টি ভেপ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা ও ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্রবিরোধী অভিযানে দুটি ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৪ হাজার ৯২৯ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৫ টাকা। এ ঘটনায় ১৭টি মামলা ও ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৬ টাকা বাংলাদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। ট্রাফিক আইনে ৪৮৩টি মামলা করে ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২৩টি যানবাহন আটক করে শাহপরীর দ্বীপ হাইওয়ে থানায় পাঠানো হয়েছে। বিক্রি নিষিদ্ধ রেশন সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা ও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া তিনটি নিখোঁজ শিশু ও ১৯ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। আগস্টে ৮, ১৪ ও ১৬ এপিবিএন মিলে মোট ৪৩টি জিআর ও সিআর মামলা করেছে।
এপিবিএনের ডিআইজি বলেন, শান্তিকালীন সময়ে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুদ্ধকালীন সময়ে ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন হিসেবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও এপিবিএনের বৈশিষ্ট্যের অংশ।