খালেক সড়ক নামে পরিচিত এ পথটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর চলাচলের অন্যতম মাধ্যম ছিল। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৩০ বছর ধরে ব্যবহৃত সড়কটি ধীরে ধীরে মেঘনার জোয়ারের পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। স্রোতের সঙ্গে মাটি সরে যাওয়ায় একপর্যায়ে সড়কের একটি বড় অংশ বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয়দের দুর্ভোগের খবর পেয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ বছর আগে কালিরখালের পাশ দিয়ে এলাকাবাসীর উদ্যোগে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। পরে এটি আলেকজান্ডার-সোনাপুর আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং কাঁচা সড়ক হিসেবে সরকারি তালিকাভুক্ত হয়।
২০২০ সালের দিকে সড়কের পাশে খাল খননের পর সেখানে নদীর পানি প্রবেশ শুরু করে। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে গাছ ও টিন দিয়ে অস্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে পানির স্রোতে সেই ব্যবস্থা টেকেনি। এরপর আর কোনো কার্যকর সংস্কার না হওয়ায় ভাঙন বাড়তে বাড়তে সড়কের একাংশ খালে পরিণত হয়।
এলাকাবাসী জানান, আলেকজান্ডার-সোনাপুর আঞ্চলিক সড়কের নবীউল মিয়ার মসজিদ থেকে আলী মিয়া ফরাজী বাড়ির দরজা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশ এখন আর নেই। আগে এ পথ দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ রামগতি উপজেলা সদর, আলেকজান্ডার, রামদয়াল বাজার, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াত করতেন। বর্তমানে সড়কটি অচল হয়ে যাওয়ায় তাদের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে চলতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, সড়কটি চরআলগী ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ছিল। এটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, রোগী, মুসল্লিসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
স্কুলছাত্রী রোজিনা আক্তার ও আকলিমা বেগম জানায়, সড়ক না থাকায় তাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব আহমেদ বলেন, ‘কেউ দেখলে বলবে এটি রাস্তা নয়, বরং খাল। অথচ বাস্তবে এটি ব্যস্ততম একটি গ্রামীণ সড়ক। সড়কটি খালে পরিণত হওয়ায় এখন এলাকাবাসীর কষ্টের শেষ নেই।’ তিনি দ্রুত সড়কটি মেরামতের দাবি জানান।
চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শফিক উদ্দিন বলেন, ‘মেঘনার জোয়ারের আঘাতে সড়কটি ভেঙে গেছে। আমরা পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছি, অন্তত একটি প্রকল্প দিয়ে হলেও সড়কটি সাময়িক মেরামত করে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করে দিতে। পর্যায়ক্রমে এটি গাইডওয়াল দিয়ে পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রুহুল আমিন বলেন, ‘সড়কটির করুণ অবস্থা স্বচক্ষে দেখলাম। খুব দ্রুত এটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘মেঘনার জোয়ারের পানি ঢুকে রাস্তা ভেঙে খাল হয়ে গেছে। আমরা দ্রুত এটি মেরামত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। পরে এটি পাকা করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’