প্রামাণ্যচিত্রে প্রকাশিত একাধিক ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর সরাসরি নির্দেশ দিতে শোনা যায়। ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখের একটি ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে ঢাকার দক্ষিণের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপশকে বলতে শোনা যায়:
“আমি তো ওপেন অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। এখন ওরা মারবে, যেখানে পাবে সেখানেই গুলি করবে। আমি তো এতদিন থামিয়ে রেখেছিলাম। আমি ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছিলাম।”
আরও একটি রেকর্ডিংয়ে তাকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর প্রসঙ্গেও কথা বলতে শোনা যায়।
আল জাজিরার অনুসন্ধান অনুযায়ী, তিন সপ্তাহব্যাপী ওই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১,৫০০ জন নিহত হন এবং আহত হন ২৫,০০০-এর বেশি। সরকার-সমর্থিত বাহিনী প্রায় ৩০ লাখ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে বলে প্রামাণ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন ছাত্রনেতা আবু সাঈদ। তার মৃত্যুর পর ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রামাণ্যচিত্রে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান তার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট থেকে গুলির আলামত মুছে ফেলতে তদবির করেছিলেন। রিপোর্টটি পাঁচবার পরিবর্তন করা হয় এবং পরিবারের উপর চাপ প্রয়োগ করে তাদের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করানো হয়।
আল জাজিরা আরও দাবি করে, শেখ হাসিনার সরকার পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেশের ভেতরের সহিংসতার চিত্র আন্তর্জাতিক মহলের কাছে গোপন রেখেছিল। ফাঁস হওয়া গোপন নথিপত্রে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
আল জাজিরার প্রতিবেদনের জবাবে আওয়ামী লীগ জানায়, শেখ হাসিনা কখনও 'প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ' দেননি। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ জুলাইয়ের ফোনালাপ ভুয়া ও সাজানো। আবু সাঈদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তারা জানায়, বাহিনীর কর্মকাণ্ড তদন্তে শেখ হাসিনার উদ্যোগ ছিল।
তারা আরও দাবি করে, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের কারণ ছিল আন্দোলনকারীদের 'ভাঙচুরে' ইন্টারনেট অবকাঠামোর ক্ষতি হওয়া।
আল জাজিরার অনুসন্ধান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। যদিও আওয়ামী লীগ অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে, এই অনুসন্ধান দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর একটি নতুন মাত্রায় উন্মোচন করেছে।