সৌদি সরকার ২০২৩ সালে প্রথম পাঁচটি পেশার জন্য স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম চালু করে। বর্তমানে এটি ৭১টি পেশায় সম্প্রসারিত হয়েছে, যার মধ্যে শিগগিরই ক্লিনার ও লোডিং শ্রমিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই প্রোগ্রামে কম্পিউটারভিত্তিক লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা যাচাই করা হয়, যা অল্প শিক্ষিত শ্রমিকদের জন্য বড় বাধা।
বাংলাদেশ সরকারের অধীনস্থ ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি) এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এমন শ্রমিকদের জন্য শুধুমাত্র ব্যবহারিক পরীক্ষার ভিত্তিতে সার্টিফিকেশন দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।
দক্ষতা যাচাইয়ের শর্ত আরোপ করা হলেও শ্রমিকদের বেতন বাড়েনি। বর্তমানে গড় মাসিক বেতন ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা (৮৩০–১,০০০ সৌদি রিয়াল)। অথচ এসভিপি পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রার্থীকে ৫০ ডলার পর্যন্ত ফি গুণতে হচ্ছে। এতে হতাশ শ্রমিক ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বলছে—শুধু কাগজপত্রে দক্ষতা বাড়লেও এর আর্থিক সুবিধা নেই।
বাংলাদেশ সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ক্লিনার ও লোডিং শ্রমিকদের জন্য শর্ত শিথিল করার অনুরোধ জানিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২০ জুলাই পর্যন্ত লোডিং-আনলোডিং শ্রমিকদের জন্য সাময়িকভাবে ভিসা দেওয়া হচ্ছে, তবে ক্লিনারদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত এখনো ঝুলে আছে।
বিএমইটি জানিয়েছে, তারা প্রতি মাসে ৪০,০০০ শ্রমিককে এসভিপির আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।
শুধু সৌদি আরব নয়—ইতিমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, বাহরাইন এবং মালয়েশিয়াও বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়া সীমিত করেছে। এতে করে রেমিট্যান্সনির্ভর বাংলাদেশের জন্য বিদেশি কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বৈরা)-এর সাবেক মহাসচিব শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, “সরকার চুক্তির আগে বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেনি। এখন শ্রমিকদের সার্টিফিকেশনের বোঝা বহন করতে হচ্ছে, কিন্তু তার কোনো আর্থিক সুফল তারা পাচ্ছেন না।”
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ের সমাধান করা উচিত। মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান করাও জরুরি বলে তারা মনে করছেন