সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের পুকুরপাড়ের পুরাতন শহিদ মিনারটি ভেঙে প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থীদের নামে স্মৃতিফলক নির্মাণ শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর শহিদ বীরমুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি দাস বীরবিক্রম, তালেব আহমদ, গিয়াস উদ্দিন ও আলী আজগরের স্মরণে শিক্ষার্থীরা এ মিনারটি নির্মাণ করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে কলেজে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে এখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হতো।
সম্প্রতি সেই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ভেঙে নতুন স্মৃতিফলক নির্মাণে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেন বলেন,“এটি শুধু স্থাপনা নয়, শহিদদের স্মৃতিচিহ্ন। এটি ভেঙে নামফলক করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।”
সাবেক ছাত্রনেতা মোনাজ্জির হোসেন সুজন বলেন,“কৃতি শিক্ষার্থীদের স্মৃতিফলক নির্মাণ ভালো উদ্যোগ, কিন্তু শহিদ মিনার ধ্বংস করা অনুচিত। কলেজে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও এমন কাজ করা ভুল।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা এহতেশাম হক বলেন,“একটি স্মৃতিফলক ভেঙে আরেকটি নির্মাণ গ্রহণযোগ্য নয়। বিকল্প স্থানে এটি করা উচিত।”
কলেজ অধ্যক্ষ মাহবুবুল রহমান জানান,“স্মৃতিফলকটি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর করছে। নতুন শহিদ মিনার থাকায় পুরাতনটি ভাঙায় আমাদের আপত্তি ছিল না।”
অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন,“কলেজের অনুরোধে কাজ শুরু হয়েছিল। বিতর্কের কারণে কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।”
পুরাতন শহিদ মিনার ভাঙা নিয়ে সুনামগঞ্জে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণে আরও সচেতন হওয়া জরুরি।