আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির করেন।অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বসুন্ধরা কোম্পানির মালিকানাধীন দৈনিক কালের কণ্ঠের সিলেটের সাবেক ব্যুরো প্রধান আহমেদ নূর সিলেটের আদালতে এই মামলাটি করেছিলেন। মামলায় আসামিদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারির পরও আদালতে হাজির না হওয়ায় বসুন্ধরার চেয়ারম্যানসহ আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
এই মামলার মধ্যে আসামি করা হয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তার ছেলে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর, দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরীসহ ৬জন।
কালের কণ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে মামলায় বিবাদী হিসেবে রয়েছে। নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮/১৪০ ও অন্যান্য ধারা অনুযায়ী মামলাটি ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর করা হয়েছিল। আদালত সেদিনই ৬ আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারির আদেশ দেন।কিন্তু আসামিরা হাজির নাহ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
মামলায় অভিযোগ দায়ের করার সময় উল্লেখ করেন, মামলার বাদী বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ থেকে প্রকাশিত দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ১২ বছর সিনিয়র রিপোর্টার পদমর্যাদায় সিলেট অফিসের ব্যুরোপ্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সংবাদপত্র ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী দীর্ঘদিনের সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধ করতে কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করেন। একপর্যায়ে বেনিফিটের টাকা পরিশোধে সম্মত হন। কিছু টাকা পরিশোধ করেন। এছাড়া প্রতি মাসে একটি চেক নগদায়নের তারিখ দিয়ে গত জানুয়ারি মাসে ১০টি চেক প্রদান করেন। কিন্তু দুটি চেক অনার হলেও আটটি চেক ডিজঅনার হয়। যার অর্থের পরিমাণ ৬ লাখ ০১ হাজার ৮২৪ টাকা।
মামলার বাদী আহমেদ নুরের আইনজীবীর মাধ্যমে উকিল নোটিশ পাঠালে আসামিরা শিগগিরই টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েও টাকা দেয়নি।এজন্যই বাদী আহমেদ নুর গত বছর ৫ ডিসেম্বর একটি চেক এবং ৩১ ডিসেম্বর অপর সাতটি চেক ডিজঅনারের পৃথক দুটো মামলা করেন সিলেটের আদালতে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) প্রথম মামলায় সিলেটের আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
বাদীর পক্ষে আদালতে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম। তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সমন জারির পরও আদালতে হাজির না হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।