১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে হত্যার মাত্র আড়াই মাস পর সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো জাতি। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর পর দেশের নেতৃত্বে থাকা এই চার নেতা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের প্রধান নীতিনির্ধারক। তাঁরা কারাগারে বন্দি অবস্থায়ও রাষ্ট্র ও জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছিলেন। কিন্তু ৩ নভেম্বর গভীর রাতে ঘাতকদের গুলিতে শেষ হয় তাঁদের জীবন।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার পর মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। সেখানে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী, এম মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান খাদ্য ও ত্রাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও ত্যাগের ফলেই মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিণতি ঘটে।
ইতিহাসবিদদের মতে, জেল হত্যাকাণ্ড ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতীয় ঐক্য ধ্বংসের পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। কিন্তু তাঁদের আদর্শ আজও বেঁচে আছে কোটি মানুষের হৃদয়ে।
দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শহীদ চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। সকাল থেকে জাতির শ্রদ্ধা নিবেদন চলছে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর, বনানী কবরস্থান ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
১৯৯৬ সালে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে কয়েকজন আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা ও কার্যকর হয়। তবে এখনো পুরো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
জাতীয় চার নেতার আত্মত্যাগ আজও বাঙালি জাতির জন্য এক অনন্ত অনুপ্রেরণা—দেশপ্রেম, ন্যায় ও গণতন্ত্রের পথচলায় তাঁদের আদর্শই আলো হয়ে পথ দেখায়।