শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি জানান রিজভী। এর এক দিন আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় জিডিটি করেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মশিউর রহমান।
জিডিতে বলা হয়েছে, রুহুল কবির রিজভী নিজে কোনো ফেসবুক আইডি, প্রোফাইল বা পেজ পরিচালনা করেন না। ফলে তাঁর নামে থাকা কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্য, মন্তব্য, ছবি বা ভিডিওকে তাঁর অনুমোদিত বক্তব্য হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি রিজভীর নাম, ছবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও পদবি ব্যবহার করে একাধিক ফেসবুক আইডি ও পেজ পরিচালনার বিষয়টি নজরে এসেছে। এর মধ্যে একটি অ্যাকাউন্টে ব্লু ভেরিফিকেশন চিহ্নও রয়েছে। এতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওই অ্যাকাউন্টকে রিজভীর প্রকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মনে করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জিডিতে বলা হয়েছে, ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো থেকে রিজভীর নামে রাজনৈতিক মতামত, বক্তব্য, ছবি, ভিডিও, সংবাদসহ বিভিন্ন কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরও বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য প্রচারের আশঙ্কাও রয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডে রিজভীর ব্যক্তিগত সুনাম ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া বক্তব্য বা রাজনৈতিক প্রচারণা চালানোকে পরিচয়ের অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টি তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জিডিতে আরও বলা হয়, রিজভীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অভিযোগ আগেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে পল্টন থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।
এবারের জিডিতে সংশ্লিষ্ট ভুয়া আইডি ও পেজগুলো শনাক্ত করে তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাকাউন্টগুলোর ইউআরএল, পেজ বা প্রোফাইল আইডি, ইউজারনেম, ভেরিফিকেশন স্ট্যাটাসসহ সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ছবি ও ভিডিওর ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে এসব অ্যাকাউন্ট কারা পরিচালনা করছে, তা শনাক্ত করারও অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার সঙ্গে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ এবং ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ বা অপসারণে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অভিযোগের তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫সহ প্রচলিত আইনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে রিজভীর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে অপপ্রচার, প্রতারণা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতেও প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।