রিজভী বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি মানেই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সংকট। তাই তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। কিন্তু এখন দেশের ছাত্রসমাজ নতুন উদ্যমে রাজপথে নেমে এসেছে।”
তিনি দাবি করেন, “চলমান ছাত্রআন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এটিকে 'চূড়ান্ত লড়াই' বলে অভিহিত করেছেন। আন্দোলনের দিকনির্দেশনাও এসেছে তাঁর কাছ থেকেই।”
‘মার্চ ফর গোপালগঞ্জ’ নিয়ে সরকার আতঙ্কিত
সমাবেশে রিজভী অভিযোগ করে বলেন, “ছাত্ররা নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং তারা ‘মার্চ ফর গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে, এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের দমন করতে। এ কারণেই এনসিপির ওপর বর্বর হামলা চালানো হয়েছে।”
তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের লড়াইয়ে ঐক্য প্রয়োজন, কিন্তু আমাদের মাঝে এখনো বিভেদ রয়েছে। কিছু ব্যক্তি বিএনপির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অথচ সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তারা নিশ্চুপ।”
রিজভী প্রশ্ন তোলেন, “সন্ত্রাসীদের শাস্তি দেবে কে—রাজনৈতিক দল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী? প্রশাসনের ব্যর্থতা আড়াল করে তারেক রহমানকে টার্গেট করে অপপ্রচার চালানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ
শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থাকে একনায়কতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে রিজভী বলেন, “তিনি গণতন্ত্র চান না, শান্তিও চান না। তিনি চান ক্ষমতা, রাজত্ব ও শোষণ। দেশকে সোনার খনি মনে করে পরিবারের মাধ্যমে সম্পদ বিদেশে পাচার করছেন। ইতোমধ্যে একের পর এক তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে।”
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ
গোপালগঞ্জের সাম্প্রতিক সহিংসতা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। ভাতের অধিকার কেড়ে নিয়ে দিচ্ছে সন্ত্রাসের বিভীষিকা। কিন্তু মানুষ এখন আর ভয় পায় না। তারা জানে, কিভাবে রক্ত দিয়ে গণতন্ত্রের অধিকার ছিনিয়ে আনতে হয়।”
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “গণমানুষের বাঁচার অধিকারে হস্তক্ষেপ করলে ফল ভালো হবে না। ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানই আমাদের শিক্ষা দেয়—জনতার শক্তিকে অবদমন করা যায় না।”
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।
এছাড়া বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, বরিশাল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন এবং সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।