আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিবারের খোঁজখবর নেন।
সাক্ষাতে আবরারের বাবা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে সহযোগিতা চান। প্রধানমন্ত্রী জানান, মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন এবং আদালত স্বাধীনভাবে এর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবিও জানান আবরারের বাবা। প্রধানমন্ত্রী সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে সেটি আবরার ফাহাদের নামে করার কথা বলেন। আবরারের কবর পাকাকরণ ও পাশের মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করার বিষয়েও সহযোগিতা চান তিনি। মসজিদের কাজ দ্রুত শেষ করতে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিবারের পক্ষ থেকে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ও পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়। আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী যেন ক্যাম্পাস সহিংসতার শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আবরারের ছোট ভাই বুয়েটে প্রধানমন্ত্রীকে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। পাশাপাশি আবরারের নামে হল নির্মাণ ও তার ঘটনা পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির দাবি করেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন। বিভিন্ন সময়ে নিহতদের একটি তালিকা তৈরির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন।
সাক্ষাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও উপস্থিত ছিলেন।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ডিবি ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন।