প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি মামুনের ভাগ্য আদালতের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, আদালতের বিচার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলেও কার্যক্রম স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত থাকবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। প্রথমে শুধু শেখ হাসিনা একমাত্র আসামি ছিলেন। ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি করা হয়। মামলায় মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ১২ মে ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা হয়, যাতে তথ্যসূত্র, দালিলিক প্রমাণ ও শহীদদের তালিকা অন্তর্ভুক্ত। ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ও ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সাবেক আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হয়ে সাক্ষ্য দেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল ও চিফ প্রসিকিউটর সমাপনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন, আসামিপক্ষ খালাস প্রার্থনা করেন। ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করবে।
মামলায় যে অভিযোগ গুলো প্রসিকিউশন থেকে দাখিল করা হলো- তা নিম্নরুপ
১. ১৪ জুলাই গণভবনে ছাত্র-ছাত্রীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। গুলিতে প্রায় ১,৫০০ নিহত ও ২৫,০০০ আহত।
২. হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।
৩. রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
৪. রাজধানীর চানখাঁরপুলে আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
৫. আশুলিয়ায় নিরীহ ছয়জনকে আগুনে পোড়ানো হয়। তিনজন (শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান ও মামুন) অভিযুক্ত।