মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯ বছর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৫ সালের আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের আন্দোলন পর্যন্ত গণতন্ত্রকামী বিভিন্ন আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে।
বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরে টুকু বলেন, গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এলেই বিএনপি এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। দলটি কখনো গণতন্ত্রের বিপক্ষে অবস্থান নেয়নি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই দলটির যাত্রা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির নেতৃত্বেই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের পতন হয়েছে এবং দেশে গণতন্ত্রের বিজয় এসেছে।
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও পোশাক দেওয়ার কর্মসূচি চালু হয়েছে।
টুকু বলেন, বিএনপি জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখেই রাজনীতি করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেশের মানুষের জন্য কাজ করছেন। এ সময় তাকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন টুকু। এ ধরনের তৎপরতা মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি যেন আর দেশে ক্ষমতায় ফিরতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে জনসভাটি পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু।
এতে আরও বক্তব্য দেন মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলী ইমাম তপন, যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।