মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
পরদিন বুধবার (১৩ মে) পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম, থানার পুলিশ কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন সময়ে কিশোরী বয়সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েন টেপরী রাণী। পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাকে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে পাঠানো হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। পরবর্তী কয়েক মাস তিনি নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। স্বাধীনতার পর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়।
যুদ্ধোত্তর সময়ে সামাজিক চাপ ও অবহেলার মধ্যেও তিনি জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যান। পরে জন্ম হয় সুধীর বর্মনের, যিনি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হন এবং বর্তমানে ভ্যানচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সমাজের কটাক্ষ আর কষ্টের স্মৃতি নিয়ে তার জীবন কেটেছে।
দীর্ঘ সময় পর ২০১৭ সালে সরকারিভাবে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পান টেপরী রাণী। পরবর্তীতে তার জীবনগাথা প্রকাশ্যে এলে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরিবার জানায়, এই স্বীকৃতি জীবনের শেষ দিকে তাকে কিছুটা মানসিক শান্তি এনে দিয়েছিল।
ছেলে সুধীর বর্মন বলেন, জীবনে অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন মা। দেশের জন্য তার ত্যাগ কখনো ভোলার নয়। স্বীকৃতি পাওয়ার পর কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছে আমাদের জীবনে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আমরা তাকে শেষ বিদায় জানিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।