দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল সৌদি আরব সাম্প্রতিক সংঘাতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়। এতে স্পষ্ট হয়, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এবার ইরানি হামলার পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে।
তবে কৌশলগতভাবে সৌদি আরব ও আমিরাতের অবস্থানে পার্থক্য ছিল। আমিরাত কঠোর অবস্থান নিলেও সৌদি আরব প্রকাশ্যে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানায় এবং তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যায়। এমনকি রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে।
পশ্চিমা ও ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, হামলার পর সৌদি আরব ইরানকে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার সতর্কবার্তা দেয়। পরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা প্রশমনে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা গড়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই বুঝতে পেরেছে যে নিয়ন্ত্রণহীন সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধরনের যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে।
২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পর সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছিল। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত নতুন করে দুই দেশের সম্পর্ককে অস্থির করে তোলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে এবং সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানায়।