শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এনসিপির আয়োজিত গণসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে জ্বালানি সংকটের মধ্যে রয়েছে। সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলেছিলেন উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, পাঁচ মাসের মধ্যেই সেই পরিকল্পনার বাস্তব চিত্র জনগণ দেখতে পেয়েছে।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং দুর্নীতিও বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকেও দায়ী করেন তিনি।
গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পরও তার রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি দাবি করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বর্তমান সরকারকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দেওয়ারও সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের পরিবর্তে ব্যবসায়ী ও মাফিয়াদের স্বার্থ রক্ষা করছে। নির্বাচনে যারা অর্থের জোগান দিয়েছে, তাদের হাতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রশাসনে দলীয়করণ শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা চাপের মুখে রয়েছেন বলেও দাবি করেন নাহিদ।
জনগণ আগামী দিনে সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে আরও আন্দোলন গড়ে উঠবে।
সমাবেশে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু আগের পদ্ধতিতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে, যা হতাশাজনক। জুলাই সনদ অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে আরও যোগ্য রাষ্ট্রপতি পাওয়ার সুযোগ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ভারতে অবস্থানরত গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ না নিয়ে সেখানে সফর করা হলে তা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হবে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশের প্রতিটি ঘরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে হলে দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভবিষ্যতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং কাউন্সিলর পদে এনসিপির প্রার্থীরা নির্বাচিত হবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।