রামিসা উপজেলার মধ্যম শিয়ালদী গ্রামের হান্নান মোল্লার মেয়ে। নিষ্পাপ শিশুটির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। এলাকাজুড়েও বিরাজ করছে ভারী পরিবেশ।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার সন্ধ্যায় রামিসার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ নামানোর সময় স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিশুটিকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন শত শত মানুষ।
মোল্লাবাড়ি এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী অংশ নেন। দাফনের সময় পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে পল্লবী থানার মিল্লাত ক্যাম্প এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটিকে ধর্ষণের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে স্বপ্না আক্তার নামে এক নারীকে আটক করা হয়। পরে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার পর মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং বাসার খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
শিশু রামিসাকে হত্যার এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জানাজায় অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।