বৈঠকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক বদলি নীতিমালা এবং নারীবান্ধব শিক্ষা পরিবেশ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা জানতে চান—কোন কোন বিদ্যালয় ভালো করছে, কোথায় শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে আছে, এবং শিক্ষার গুণগত মান কেমন। তিনি এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় বৈঠকে জানান, “প্রাথমিক শিক্ষায় অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক টাকা ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিতভাবে শিক্ষার মান বাড়েনি।” তিনি আরও জানান, “মূল্যায়নে দেখা গেছে, যেখানে প্রধান শিক্ষক যোগ্য এবং সহকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো, সেখানে শিক্ষার মান তুলনামূলকভাবে ভালো।”
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, যা শিক্ষার মান রক্ষায় বড় অন্তরায়। এই অবস্থায় দ্রুত পদায়ন ও নতুন নিয়োগের নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।
ড. ইউনূস বলেন, “প্রধান শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করতে হবে। কয়েকটি ক্যাটাগরি করে প্রবীণ ও তরুণ—দুই পক্ষকেই সুযোগ দিতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, দ্রুত এবং সুবিচারসঙ্গত হতে হবে।”
তিনি সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে সমন্বয় করে অতিদ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেন।
বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নীতিমালার অভাবের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এক উপজেলায় নিয়োগ পেয়ে পরে শিক্ষকরা শহরের কাছে বদলির জন্য তদবির করেন। এটি বন্ধে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে, যাতে শুধুমাত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বদলি সম্ভব হয়।”
নারীবান্ধব শিক্ষা পরিবেশ তৈরির কথাও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “স্কুল ভবন নির্মাণ কমিটিতে অন্তত একজন নারী স্থপতি থাকতে হবে যাতে মেয়েদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবেশ গড়ে ওঠে। পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত মেয়ে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনকে আলাদা গুরুত্ব দিতে হবে।”
বৈঠকে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ধাপে ধাপে ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আনা এবং মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ চালুর বিষয়েও জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা।