আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) উপমহাদেশের বরেণ্য রাজনীতিক শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ১৯৬২ সালের এই দিনে ঢাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শিক্ষা, মানবকল্যাণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে তার অবদান তাকে ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় স্থান দিয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, প্রায় অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ফজলুল হক দক্ষ রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে গণমানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। অবিভক্ত বাংলার রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক প্রভাবশালী নেতা, যিনি কৃষক-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় দৃঢ় ভূমিকা পালন করেন।১৯৩৬ সালে কৃষক প্রজা পার্টি এবং ১৯৫৩ সালে শ্রমিক-কৃষক দল গঠনের মাধ্যমে তিনি প্রান্তিক মানুষের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক সংস্কার এবং প্রশাসনিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার উদ্যোগে গঠিত ঋণ সালিশি বোর্ড কৃষকদের ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি প্রজাস্বত্ব আইন, মহাজনি আইনসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের সম্মেলনে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতার পথরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ফজলুল হক ছিলেন বাংলার কৃষক সমাজের প্রকৃত বন্ধু। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে এ অঞ্চলের রাজনীতি কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব কৃষকদের স্বার্থকে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ফজলুল হক জনবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। প্রশাসনকে মানুষের কাছে সহজ করে তোলা এবং শিক্ষার প্রসারে তার উদ্যোগ সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অগ্রগতির পথ খুলে দেয়।
১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা—সব ক্ষেত্রেই তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব এবং ২১ দফা দাবির প্রণেতা হিসেবে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।