বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শক্ত নীতিমালা ও সাহসের সঙ্গে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে দেশটির সঙ্গে বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হবে। আলোচনা হবে, লড়াইও হবে, তবে সমানে সমান। ভারত সৎ সম্পর্ক চাইলে বাংলাদেশও তা চায়। প্রতিবেশী দুই দেশের সুসম্পর্কের জন্য উভয় পক্ষকেই সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটাতে হবে।
একাত্তর-পরবর্তী লুটপাট, দুঃশাসন, বাকশাল ও রক্ষীবাহিনীর সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের কবর দিয়ে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রক্ষীবাহিনীর হাতে বহু মানুষ নিহত হলেও হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার হয়নি। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট ও দুর্ভিক্ষে মানুষ না খেয়ে ফুটপাতে মারা গেছে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দায়িত্ব নেওয়ার বছরই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর পেছনে কারা ছিল তা এখনো জানা যায়নি। দুটি তদন্ত কমিটি হলেও তাদের প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। এতে সেনাবাহিনী ও তৎকালীন বিডিআর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দোষী, অপরাধী, চোর ও লুটেরারাই পালায়; সৎ মানুষ পালায় না। পালিয়ে গিয়েও তারা ‘এই আসি, ওই আসি’ বলে জাতিকে বিরক্ত করছে। তিনি বলেন, ‘এত আসি আসি করেন, গেলেন কেন?’
শফিকুর রহমান বলেন, দেশকে ভালোবাসলে অপরাধের শাস্তি দেশে থেকেই নিতে হয়, আর নির্দোষ হলে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। সৎ মানুষ ফাঁসি বা জেল হলেও দেশ ছেড়ে পালায় না।
২০২৪ সালের গণহত্যার বিচার নিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিচারকাজ যে গতিতে এগিয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের সময়ে সেই গতি দেখা যাচ্ছে না।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে গার্মেন্টস খাতের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে। শিল্প খাত রক্ষায় সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদে পাস হওয়া তিনটি বিলে বিরোধীদলের আপত্তির কথা জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এর প্রতিবাদে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। তার অভিযোগ, এসব আইন জনগণের চেয়ে সরকারকেই বেশি সুবিধা দেবে।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনকে কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতি এতে স্বাক্ষর করবেন না।