ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টার দিকে কর্মসূচি শুরু হয়। দিল্লি পুলিশ শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার পর সংগঠনটির কর্মীরা যন্তর মন্তরে জড়ো হতে শুরু করেন। শুরু থেকেই পুরো এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরে আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন। দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার কথা হয়। পরে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে আগের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে সরাসরি যন্তর মন্তরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে দিপকে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে বলেন। একই সঙ্গে তিনি অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় পতাকা ও বই সঙ্গে আনার অনুরোধ জানান এবং পুলিশ সদস্যদের ফুল দিয়ে সম্মান জানানোর আহ্বান করেন। তার ভাষায়, ভালোবাসা ও শান্তিপূর্ণ আচরণের মাধ্যমেই আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া উচিত।
এই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন পরিচিত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি বলেন, অভিজিৎ দিপকেকে আটক করা হলে তিনি টানা ছয় সপ্তাহ অনশনে যাবেন। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করার পরামর্শও দেন।
সিজেপির অভিযোগ, নিট, সিবিএসই, সিইউইটি ও এসএসসি পরীক্ষায় নানা ধরনের অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রম ঘটেছে। এসব বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করা হয়েছে।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নয়াদিল্লির বিভিন্ন এলাকায় এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সিজেপিও নিজেদের সমর্থকদের জন্য আলাদা নির্দেশনা জারি করে শান্তিপূর্ণ আচরণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।
অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়ার পর যন্তর মন্তরের এই সমাবেশকে সিজেপির প্রথম বড় ধরনের মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে।