রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে অন্তত ৫ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার স্থানীয় সময় রাতভর এই হামলা চালানো হয়। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রধান ওলেক্সান্দর হাঞ্ঝা জানান, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালায়। একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, আহতদের মধ্যে অন্তত ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
হাঞ্ঝা আরও জানান, হামলায় শহরের একাধিক বহুতল আবাসিক ভবন, দোকানপাট, গুদাম এবং ব্যক্তিগত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি এলাকায় আগুন ধরে যায়, ফলে ফায়ার সার্ভিসকে একাধিক স্থানে কাজ করতে হয়। একই সময়ে ওডেসা অঞ্চলেও ড্রোন হামলায় অন্তত দুইজন আহত হন, সেখানে বন্দর অবকাঠামো, গুদাম ও কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দিনিপ্রোতে পরবর্তী আরেকটি হামলায় বিকেলের দিকে আরও একজন নিহত হন। আগের রাতের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একই আবাসিক এলাকায় এই আঘাত আসে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মোট আহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬ জনে পৌঁছেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। সেখানে জরুরি পরিষেবা দল উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালাচ্ছে।
অন্যদিকে রোমানিয়ার গালাতি শহরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পাওয়া গেছে। তবে এতে কোনো প্রাণহানি না হলেও স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এর আগেও একাধিকবার সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়।
এর আগে শুক্রবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ১৯৩ জন করে যুদ্ধবন্দি বিনিময় সম্পন্ন হয়। কয়েক মাস ধরে চলা আলোচনায় এটি একটি বিরল অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি।