বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামী দলগুলোর টানা প্রতিবাদ এবং জনগণের উদ্বেগ সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার একতরফাভাবে এ চুক্তি করেছে, যা জনগণের মতামতের প্রতি চরম অবজ্ঞা। মার্কিন স্বার্থে পরিচালিত জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন তারা।
তারা বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় সাধারণত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতেই খোলা হয়। বাংলাদেশ যুদ্ধপীড়িত না হওয়ায় এখানে এমন অফিস খোলার উদ্দেশ্য রহস্যজনক। তাদের মতে, “জুলাই বিপ্লবের” দাবিগুলো বাস্তবায়ন হলে এমন কার্যালয়ের প্রয়োজনই পড়ে না। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে।
হেফাজত নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অতীতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ইসলামী শরিয়া, মুসলিম পারিবারিক আইন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের আওতায় এলজিবিটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে একজন সমকামী ব্যক্তিকে জাতিসংঘ দূত হিসেবে বাংলাদেশে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তারা। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ধর্মীয়-সামাজিক মূল্যবোধকে ধ্বংসের চক্রান্ত চলছে।
তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চল ঘিরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র আরও জোরালো হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস খোলা হলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় মূল্যবোধ হুমকির মুখে পড়বে বলে তারা মনে করেন।
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে সংঘটিত ঘটনায় জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোনো উদ্বেগ না প্রকাশ করার সমালোচনা করে নেতারা বলেন, ফিলিস্তিনের মতো বাংলাদেশকেও একটি নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের ভূমিকা সন্দেহজনক বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বিবৃতির শেষাংশে হেফাজতে ইসলামের নেতারা বলেন, “আমরা ওলামায়ে কেরাম চুপ করে বসে থাকতে পারি না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।”