ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে আনা প্রস্তাব আবারও খারিজ করেছে মার্কিন সিনেট। এটি ছিল একই ধরনের চতুর্থ উদ্যোগ, তবে আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটি ৪৭-৫২ ব্যবধানে নাকচ হয়। রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পাউল প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান এর বিপক্ষে অবস্থান নেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামাবাদে আলোচনায় স্থায়ী সমাধান না এলেও উভয় পক্ষই আবার আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখিয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়ে বলেন, একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এমন মন্তব্যের পর কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার দাবি আরও জোরদার হয়।
প্রস্তাবের সমর্থকদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছেন, যা সংবিধানের পরিপন্থী। সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট পদক্ষেপ নিতে পারেন।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি এই সংঘাতকে ভুল পরিকল্পনার ফল বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, প্রাণহানি বাড়ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপের মুখে পড়ছে। বিপরীতে রিপাবলিকান সিনেটর জিম রিচের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব পালন করছেন এবং এ ধরনের প্রস্তাবের প্রয়োজন নেই।
এদিকে প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে পাস হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অনুমোদন মিললেও প্রেসিডেন্টের ভেটো অতিক্রম করা কঠিন হবে।
আইন অনুযায়ী, সামরিক অভিযান ৬০ দিন অতিক্রম করলে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক, নইলে সেনা প্রত্যাহার করতে হয়। এর মধ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের দিকে কোনো জাহাজ চলাচল করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত জাহাজ তল্লাশি বা জব্দ করা হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে বর্তমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে।