লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না হলে কোনো ধরনের চুক্তিতে সই করবে না বৈরুত—এমন অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। আসন্ন আন্তর্জাতিক আলোচনার আগে তিনি এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বৈরুতে সরকারি দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সালাম জানান, লেবাননের মাটিতে কোনো ‘বাফার জোন’ বা ইসরায়েলি উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয় যেখানে বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজেদের ঘরে ফিরতে পারবে না বা ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা পুনর্গঠন বাধাগ্রস্ত হবে।
ফ্রান্স সফরে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর সঙ্গে বৈঠকের পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও উল্লেখ করেন। সালামের মতে, ইসরায়েলের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা মূলত যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে, এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভবিষ্যতেও ওয়াশিংটনের সেই প্রভাব অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদী একটি প্রক্রিয়া। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া মানেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া বা অবস্থান থেকে সরে আসা নয়।
আলোচনার ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে লেবানন পরিষ্কার—এমন মন্তব্য করে সালাম বলেন, তারা কী অর্জন করতে চায়, তা তাদের কাছে সুস্পষ্ট।
চলমান উত্তেজনা প্রশমনে বৃহস্পতিবারের এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে লেবাননের এই অনড় অবস্থান শেষ পর্যন্ত সমঝোতার পথ সহজ করবে, নাকি আরও জটিল করে তুলবে—তা এখন সময়ই বলে দেবে।