বুধবার (৮ এপ্রিল) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ আব্বাস অরঘচি এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও সামরিক প্রতিরক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কোনোভাবেই সংঘাতের সমাপ্তি নয়। শত্রুপক্ষ কোনো ধরনের উসকানি বা ভুল পদক্ষেপ নিলে তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে, বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূমিকার প্রশংসা করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার পথ খুঁজতে আগামী শুক্রবার থেকে ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে তিনি শর্ত জুড়ে দেন—হরমুজ প্রণালি দ্রুত, সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে খুলে দিতে হবে। এই শর্ত মানা হলে দুই পক্ষই নির্ধারিত সময়ের জন্য সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি জানান, ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া প্রস্তাবনাগুলো আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি তৈরি করেছে এবং অতীতের অনেক জটিল ইস্যুতেও অগ্রগতি হয়েছে।
তার মতে, এই দুই সপ্তাহের সময়কাল চূড়ান্ত সমঝোতা এবং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথ প্রশস্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।