বুধবার (১৩ আগস্ট) ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পর ট্রাম্প এ সতর্কবার্তা দেন। বৈঠকে অংশ নেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, যিনি শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে কিয়েভকে উপেক্ষা না করার আহ্বান জানান। ট্রাম্প জানান, শুক্রবারের বৈঠক ইতিবাচক হলে তিনি পুতিন ও জেলেনস্কিকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব দেবেন। তবে প্রয়োজনীয় জবাব না পেলে দ্বিতীয় বৈঠকের সম্ভাবনা নেই বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বৈঠক শেষে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্টজ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, রাশিয়া যদি শুক্রবারের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হয়, তবে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে “দৃঢ় ও বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা” দিতে হবে। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে কোনো শান্তি প্রক্রিয়া স্থায়ী হবে না এবং কূটনৈতিক সমাধান অবশ্যই ইউক্রেন ও ইউরোপের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করবে।
বৈঠকের পর জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, পুতিন শান্তি আলোচনায় আন্তরিক নন; বরং আলাস্কার বৈঠকের আগে ইউক্রেনের সব ফ্রন্টে চাপ বাড়াচ্ছেন। তার ভাষায়, “রাশিয়া দেখাতে চাইছে যে তারা পুরো ইউক্রেন দখল করতে সক্ষম।” তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করাই হতে হবে বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য এবং রাশিয়া রাজি না হলে নিষেধাজ্ঞা শুধু বহাল নয়, আরও জোরদার করতে হবে।
চ্যান্সেলর মার্টজ বৈঠককে “অত্যন্ত গঠনমূলক” বলে মন্তব্য করে জানান, ইউক্রেন আলোচনায় আগ্রহী হলেও রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বলপ্রয়োগে সীমান্ত পরিবর্তনের নীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।” তার মতে, কিয়েভকে শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে দীর্ঘমেয়াদে পশ্চিমা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল রাখার সক্ষমতা বজায় রাখতে হবে।
আলাস্কার বৈঠক নিয়ে কিয়েভ ও ইউরোপে উদ্বেগ রয়েছে, বিশেষ করে ট্রাম্প আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে ভূখণ্ড বিনিময়ে যেতে হতে পারে। যুক্তরাজ্যে এক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ট্রাম্প ইউরোপে শান্তি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তবে ইউরোপীয় নেতাদের আশঙ্কা, পুতিনের মতো চৌকস আলোচকের মুখোমুখি হলে ট্রাম্পের অবস্থান বদলে যেতে পারে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউরোপের শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে “প্রায় অপ্রাসঙ্গিক” বলে মন্তব্য করেছে। এদিকে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কে অভিযান চালিয়ে রাশিয়া বুধবার সুভোরোভো ও নিকানরোভকা গ্রাম দখলের দাবি করেছে। এর প্রেক্ষিতে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ একাধিক এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে।