রাজধানী ঢাকার গুলশানে গত শনিবার সন্ধ্যায় সাবেক এক সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজির সময় ধরা পড়েন আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদ। পরিচয় দিয়েছিলেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক’ হিসেবে। এই ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ; এরপর সংগঠন থেকেও বহিষ্কার করা হয়। ঘটনার পরপরই আলোচনায় উঠে আসে রিয়াদের অতীত এবং বিতর্কিত উত্থান।
রিয়াদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নে। স্থানীয়রা জানান, তার দাদা ওয়ালীউল্যাহ ছিলেন রিকশাচালক। বাবাও দীর্ঘদিন রিকশা চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন, পরে দিনমজুরের কাজ করতেন। তার মা নাজমুন নাহার গৃহিণী হলেও একসময় কাজ করেছেন অন্যের বাড়িতে। দারিদ্র্য আর অনটনের মধ্যেই বড় হয়েছে চার সন্তানের পরিবারটি।
তবে বর্তমানে সেই বাস্তবতা পাল্টে গেছে। ভাঙা ঘরের জায়গায় গড়ে উঠছে পাকা বাড়ি, রয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি, ফেসবুকে ভরপুর রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ছবি। গ্রামের মানুষ বলছে—৫ আগস্টের পর রিয়াদের জীবনযাত্রায় ঘটে যায় নাটকীয় পরিবর্তন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আগে রিয়াদের বাড়ি ছিল কাঁচাঘর। এখন দেখছি দোতলা পাকা ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। এত টাকা কোথা থেকে এলো?”
রিয়াদের মা সামসুন্নাহার চোখের জল মুছে বলেন, “আমার ছেলে চাঁদাবাজি করেছে—এটা ভাবতেও পারি না। আমরা না খেয়ে তাকে শহরে পাঠিয়েছি। সে পড়াশোনা করছিল, হঠাৎ এত বড় অন্যায়ের সাথে সে জড়াবে—এটা বুঝি না।”
শিক্ষাজীবনে রিয়াদ নবীপুর হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন, পরে কোম্পানীগঞ্জের সরকারি মুজিব কলেজে পড়েন। সেখানে ছাত্রলীগে যুক্ত হন, পরে ঢাকায় গিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং যুক্ত হন কোটা বিরোধী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে। এরপর ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে ঢুকে পড়েন রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে। একপর্যায়ে শুরু করেন চাঁদাবাজি, যার পরিণতি গুলশানে হাতেনাতে ধরা পড়া।
নবীপুর হাই স্কুলের সাবেক সভাপতি শিহাব উদ্দিন বলেন, “এই ছেলেটাকে গ্রামবাসী অনেক কষ্ট করে পড়িয়েছিল। সে এমনভাবে বিপথে যাবে ভাবিনি। তার উত্থান প্রশ্ন তো তুলবেই।”
রিয়াদের ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছেন। ছবির মাধ্যমে নিজের পরিচিতি ও প্রভাব জাহির করতেন তিনি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ‘এক রিয়াদ ধরা পড়েছে, কিন্তু এরকম আরও কতজন রয়ে গেছে যারা আন্দোলনের ব্যানারে, সমন্বয়কের পরিচয়ে নিজেদের আড়ালে রেখে করছে চাঁদাবাজি?’ তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন—এমন মুখোশধারীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।