ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের নারীরা আগ্রাসী খেলায় প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলে। মাত্র ৩ মিনিটেই স্বপ্না রাণীর গোলে এগিয়ে যায় দল। এরপর একের পর এক আক্রমণে তুর্কমেনিস্তানের রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে। ৬ ও ১৩ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের জোড়া গোল, ১৬ মিনিটে মনিকা চাকমা, ১৭ মিনিটে রিতুপর্ণা চাকমা, ২০ মিনিটে তহুরা খাতুন এবং ৪১ মিনিটে আবারও রিতুপর্ণা চমৎকার হেডে গোল করে স্কোরলাইন দাঁড় করান ৭–০। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সবগুলো গোলই এসেছে প্রথমার্ধে।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ নারী দল গ্রুপ ‘সি’ থেকে তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এর আগে তারা মালদ্বীপকে ৭–০ এবং শক্তিশালী মিয়ানমারকে ২–১ গোলে পরাজিত করেছিল। বাছাইপর্বে মোট ১৬ গোল করে বাংলাদেশ দল এবং নিজেদের জালে মাত্র ১টি গোল খেয়েছে।
এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নারী দল প্রথমবারের মতো AFC নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল। আগামী ২০২৬ সালে মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে অস্ট্রেলিয়ায়।
খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, “মেয়েরা অসাধারণ খেলেছে। প্রতিটি ম্যাচে তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে এবং গোলের সুযোগ
কাজে লাগিয়েছে।” অধিনায়ক মারিয়া মান্দাও বলেন, “এই অর্জন আমাদের দেশের জন্য গর্বের। আমরা আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগোব।”
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পক্ষ থেকেও দলের প্রশংসা করে জানানো হয়েছে, মূল পর্বের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা হবে। এর অংশ হিসেবে বিদেশে অনুশীলন ক্যাম্প এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
নারী ফুটবলে বাংলাদেশের এই অর্জন শুধু একটি সাফল্য নয়, বরং এটি জাতীয় পর্যায়ে নারী খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা এবং সম্ভাবনার বড় প্রমাণ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে বলেই বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট মহলের।