ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে লিভারপুল। নতুন মৌসুমে অভিষেক ম্যাচেই গোলের দেখা পান হুগো একিতিকে। কিছুক্ষণ পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কোডি গাকপো। তবে থেমে থাকেনি বোর্নমাউথ। ঘানার ফরোয়ার্ড অ্যান্টোন সেমেনিও দুইবার সমতায় ফিরিয়ে আনেন দলকে।
শেষ দিকে খেলা ঘুরে যায় লিভারপুলের পক্ষে। ইতালিয়ান তারকা ফেডেরিকো কিয়েসা অসাধারণ এক ভলিতে গোল করে লিড এনে দেন দলকে। যোগ করা সময়ে মোহামেদ সালাহর গোল নিশ্চিত করে ‘দ্য রেডস’-এর জয়সূচক চার গোল।
আনফিল্ডের পরিবেশ ছিল অন্যরকম। সদ্য প্রয়াত লিভারপুল ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোটা ও তাঁর ভাই আন্দ্রে সিলভাকে স্মরণ করে মাঠজুড়ে আবেগঘন আবহ তৈরি হয়। দর্শক থেকে খেলোয়াড়, সবার চোখেই জল। ‘দ্য কপ’ গ্যালারিতে ফুটে ওঠে বিশাল মিউজাইক, গেয়ে ওঠে ঐতিহ্যবাহী সংগীত ‘ইউ উইল নেভার ওয়াক এলোন’। জোটার ব্যবহৃত ২০ নম্বর জার্সি ক্লাব কর্তৃপক্ষ সম্মানের সঙ্গে অবসরে পাঠায়।
তবে মাঠের বাইরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ছাপিয়ে যায় আনন্দঘন আবহ। প্রথমার্ধে বোর্নমাউথের গোলদাতা সেমেনিও বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন। এ সময় খেলা সাময়িক বন্ধও ছিল। ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে লিভারপুল আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে, পাশাপাশি পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এছাড়া ম্যাচে ভিএআর নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। বোর্নমাউথের মার্কোস সেনেসির হাতে বল লাগার পর লাল কার্ডের দাবি জানায় লিভারপুল। কিন্তু ভিএআর সে দাবি খারিজ করে দেয়। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক লিভারপুল তারকা জেমি ক্যারাঘার।
সব বিতর্ক ও আবেগ ছাপিয়ে মাঠের খেলায় পূর্ণ আধিপত্য দেখিয়ে মৌসুমের প্রথম জয় তুলে নেয় লিভারপুল। এই জয়ে নতুন মৌসুমে নিজেদের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে শক্ত বার্তা দিল ‘দ্য রেডস’।