চিঠির লেখাগুলোতে কোথাও সম্পর্ক নিয়ে হতাশা, কোথাও প্রতারণার অভিযোগ, আবার কোথাও নিজেকে ‘দাবার গুটি’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কষ্টের কথা রয়েছে। পাশাপাশি নিজের অবস্থান ধরে রাখার প্রত্যয় এবং ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে, তা নিয়েও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাডে কালো কালিতে লেখা একটি চিঠিতে বিশ্বাসভঙ্গের আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মরিয়ম। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’

আরেকটি পাতায় নিজের সম্পর্কের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লেখা হয়েছে, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী—কাগজে-কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা...!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ...!!!’
একই লেখায় ভালোবাসা ভাগাভাগি করার বিষয় নয় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ... ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়... ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’
সম্পর্কের মধ্যে প্রতারণার শিকার হওয়ার অনুভূতিও উঠে এসেছে আরেকটি চিঠিতে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘সে বলেছিল—আজ থেকে আমরা বন্ধু—চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো—আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’
আরেকটি জাতীয় সংসদের প্যাডে নিজের পরাজয় ও বিশ্বাসভঙ্গের কথা তুলে ধরে মরিয়ম লিখেছেন, ‘আমি হেরেছি—তুমি জিতেছো—কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো।’
সেই পাতাতেই ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে একটি কঠোর বার্তা রয়েছে। সেখানে লেখা, ‘আমি ধ্বংশের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি—দেখে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’
লাল কালিতে লেখা ছোট একটি বার্তায় নিজের আত্মসম্মানের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন মরিয়ম। সেখানে বলা হয়েছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই … তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই...!’
উদ্ধার হওয়া কাগজগুলোর মধ্যে ‘১২-০৭-২০২৬’ তারিখ লেখা একটি পাতাও রয়েছে। সেখানে রাতে ঘুমানোর আগে পালনীয় কয়েকটি ধর্মীয় আমলের তালিকা লেখা হয়েছে।
ওই পাতায় কালেমা, দরুদ শরিফ, ঘুমের দোয়া ও আয়াতুল কুরসি পড়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ ২১ বার, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ ৩ বার, ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া এহিয়া’, দরুদ শরিফ ১১ বার এবং ‘ইয়া আরহামার রাহিমিন’ ১১ বার পড়তে বলা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া চিঠি ও হাতে লেখা পাতাগুলোতে মরিয়মের সম্পর্ক, ভালোবাসা, বিশ্বাসভঙ্গ, আক্ষেপ ও আত্মসম্মান নিয়ে নানা অনুভূতির প্রকাশ রয়েছে। এর পাশাপাশি একটি লেখায় ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।