বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, গত এক দিনে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা। ২০২২ সালের পর এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই হিসাবের ইউনিট ও পদ্ধতি নিয়ে পোস্টে বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই।
২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বর্তমান লোডশেডিং প্রায় ২২ গুণ বেশি বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়। গত সাত দিনের গড় হিসাব ধরে এই তুলনা করা হয়েছে। পিজিসিবি ও পিডিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে আসিফ শাহরিয়ার ষুশ্মিত এই হিসাব করেছেন।
এদিকে পিডিবি ও পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরেই সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াটের ওপরে রয়েছে। রোববার ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, সোমবার ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, মঙ্গলবার ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং বুধবার ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।
গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, বুধবার দেশে গ্যাসের চাহিদা ছিল প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ২০৩ কোটি ঘনফুট।
সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ কমে গেছে। পেট্রোবাংলার হিসাবে, সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ ১০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছে। এতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন আরও কমেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতিই বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম কারণ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার কাজ করছে।
টানা লোডশেডিংয়ে বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গ্রিড, উপকেন্দ্র ও বিদ্যুৎ কার্যালয়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন পুলিশ প্রধানের কাছে চিঠি দিয়েছে। গোপালগঞ্জ ও নীলফামারীসহ কয়েকটি জেলার বিদ্যুৎ কার্যালয় থেকেও পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।