টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার জেরায় তিনি এ বক্তব্য দেন। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এ চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার–এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জেরার সময় টিটো বলেন, আরমান স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। তার লেখা বই আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর-এ বর্ণিত ঘটনাগুলোও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। তবে জবাবে মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন।
আলামত নিয়ে প্রশ্নে আরমান জানান, তদন্ত কর্মকর্তা তার ব্যবহৃত গামছা, লুঙ্গি ও টি-শার্ট চেয়েছিলেন। কিন্তু সংরক্ষণ না থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ সময় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আলামত নষ্ট করার অভিযোগও করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগটি ঠিক নয়; যদিও পোশাকগুলো পরে তিনি নিজেই নষ্ট করেছেন।
জেরার একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনালে তার গুমজীবন নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। আসামিপক্ষের আবেদনে উপস্থাপিত ভিডিওর একটি অংশে তাকে লুঙ্গি, টি-শার্ট ও গামছা পরা অবস্থায় দেখা যায়। আরমান বলেন, দৃশ্যটি মূল সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া। তবে আইনজীবী টিটোর দাবি, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্যেই ওই পোশাক পরা হয়েছিল। এ বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন আরমান।
পরে সাত আসামির পক্ষে জেরা চালাতে সময় চান আইনজীবী তাবারক হোসেন। এতে আপত্তি তোলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১০ মার্চ জেরা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদী, সুলতান মাহমুদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সকালে মামলার গ্রেপ্তার ১০ আসামিকে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তারা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
পলাতক আসামিদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশিদ এবং সাবেক পরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম।