শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জাতির ওপর এ ধরনের হামলার চেষ্টা কোনোমতেই বরদাশত করা হবে না। আমরা যেকোনো মূল্যে অপশক্তির এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেব।” তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, এই হামলার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র চলছে, তবে তা কোনোভাবেই সফল হতে দেবে না সরকার। “যত ঝড়-তুফান আসুক, কোন শক্তিই আগামী নির্বাচনকে থামাতে পারবে না। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করব।”
সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান জানান, হামলার পর ওসমান হাদির অবস্থা সংকটাপন্ন। পরিবারের ইচ্ছায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীর কাছে দ্রুত আরোগ্যার জন্য দোয়া করারও আহ্বান জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা জোরদারের নির্দেশ দেন যাতে হামলাকারীরা দেশ ছাড়তে না পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্তদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকালীন যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অচিরেই একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকা স্থানে অভিযান জোরদারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা শিগগিরই প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।