বিসিএসের বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তাদের নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগকে বর্তমান আমলের প্রথম বড় পদোন্নতি কার্যক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগের সরকারের আমলে দীর্ঘদিন পদোন্নতি আটকে থাকা এবং সম্প্রতি কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পর ঊর্ধ্বতন পদে শূন্যতা তৈরি হওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পদোন্নতি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৬০ জন পরিদর্শক ও ট্রাফিক পরিদর্শককে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে উন্নীত করার অনুমোদন দিয়েছে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি)। এ ছাড়া ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএসের প্রায় ১৫৫ জন এএসপিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ২৮তম, ২৯তম ও ৩০তম বিসিএসের ৯৫ জন কর্মকর্তাকে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদোন্নতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে ২১তম, ২২তম ও ২৪তম বিসিএসের প্রায় ২০ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং ১৭তম ও ১৮তম বিসিএসের দুজন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে উন্নীত করার কথা রয়েছে। আগে অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতি পাওয়া কিছু কর্মকর্তার পদও নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এবার ২০তম বিসিএসের প্রায় ৩৩ জন কর্মকর্তা ডিআইজি পদে পদোন্নতির বিবেচনায় থাকছেন না। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ ব্যাচের কর্মকর্তারা পাঁচ দফায় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আরও এক দফায় পদোন্নতি পেয়েছিলেন।
পদোন্নতির ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা, পেশাগত দক্ষতা, চাকরির রেকর্ড, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন ও গোয়েন্দা যাচাই প্রতিবেদন বিবেচনা করা হবে। এএসপি থেকে এসপি পদে পদোন্নতির বিষয়টি পর্যালোচনা করে ডিপিসি। আর অতিরিক্ত ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতির দায়িত্বে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি)।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় দক্ষতা ও ভালো চাকরির রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও কিছু কর্মকর্তা পদোন্নতি বা উপযুক্ত পদায়ন পাননি। তারা এবার অগ্রাধিকার পেতে পারেন। তবে দুই অতিরিক্ত ডিআইজি সতর্ক করে বলেছেন, পদোন্নতি না পাওয়া সব কর্মকর্তাই রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার—এমন ধারণা ঠিক নয়। কারও কারও চাকরির রেকর্ড ও আচরণ নিয়েও প্রশ্ন ছিল বলে তাঁদের বক্তব্য।
এক কর্মকর্তা বলেন, একই বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া অন্য ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তা আগেই পদোন্নতি পেয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই ব্যবধান পুলিশের কর্মকর্তাদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সম্প্রতি কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পর ঊর্ধ্বতন পদগুলোতে শূন্যতা আরও বেড়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় জনস্বার্থে ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ করা কোনো সরকারি কর্মচারীকে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ ছাড়াও অবসরে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।
কয়েকজন অবসরে পাঠানো পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁদের চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, বাহিনীর পেশাদারত্ব ও সততা নিশ্চিত করতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে মেধা, যোগ্যতা ও চাকরির রেকর্ডকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।