সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামসুদ্দোহা সরকার আদালতে এই আবেদন করেন।
এর আগে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়মকে নিয়ে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন নজরুল। একই বাসায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও ছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন নজরুল ও মাকছুদা। পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে এসব বিষয়ে মরিয়ম জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন নজরুল ইসলাম। পরে মরিয়মের বাবা তার খালা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গেলে ফ্ল্যাটের সামনে লোকজনের ভিড় দেখতে পান। তখন মরিয়মের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। জানালা দিয়ে তাকিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়।
পরে পুলিশের উপস্থিতিতে গণপূর্ত বিভাগের কর্মী সাইদুল ইসলাম সাবল দিয়ে কক্ষের দরজা ভাঙেন। মরিয়মের বিছানা থেকে একটি হাতে লেখা চিঠিও উদ্ধার করা হয়। সেখানে বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক কষ্ট ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা লেখা ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। এরপর নজরুল ও মাকছুদার নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরিয়মের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।