দুই সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি অঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যদিও উভয় পক্ষই কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে এখনো বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া যায়নি। যুদ্ধবিরতির এই ক্ষণিক সময়টিকে আন্তর্জাতিক মহল ইতিবাচকভাবে দেখছে, তবে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
১৩ জুন ইসরায়েল ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ শুরু করে, যেখানে ইরানের অন্তত ১০০টির বেশি সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। ইরানের গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ফোর্ডোতেও আঘাত হানে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান সীমিত আকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা ইসরায়েলের তেল আবিব, হাইফা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কিছু এলাকায় আঘাত হানে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই হামলায় প্রায় ৬০০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৪০০ জনের বেশি। অনেক জায়গায় হাসপাতাল ও জরুরি সেবাও আক্রমণের শিকার হয়েছে। ইসরায়েলের মতে, ইরানে চালানো হামলা প্রতিক্রিয়ায় তাদের দেশে ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ২২ জন আহত।
হামলার ভয়াবহতায় ইরানের রাজধানী তেহরানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে এক লাখেরও বেশি মানুষ শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। ফলে দেশটিতে জ্বালানির ঘাটতি, ইন্টারনেট বন্ধ ও বিক্ষোভের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ইসরায়েলেও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বোমা আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "যদি ইরান শান্তি চায় এবং পরমাণু কার্যক্রম বন্ধ করে, তবে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সমর্থন জানানো যেতে পারে।" ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্যোগে জেনেভায় ইরানকে নিয়ে পুনরায় পরমাণু আলোচনায় বসা হয়েছে। তবে ইরান বলছে, তাদের সমৃদ্ধিকরণ কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
এদিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আরেকটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান নিজেই হিজবুল্লাহকে এই যুদ্ধে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে, যাতে আঞ্চলিক চাপ কিছুটা হ্রাস পায়।
যুদ্ধবিরতির এই সময়টিকে বিশেষজ্ঞরা ‘ভঙ্গুর’ বলে আখ্যায়িত করছেন। কারণ উভয় পক্ষ এখনো সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখেছে এবং যেকোনো সময় পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। ইসরায়েল বলছে, তারা প্রয়োজনে আবার আঘাত হানবে। অপরদিকে ইরান বলছে, তারা "কৌশলগত ধৈর্য" অবলম্বন করছে।
এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য যেমন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে, তেমনি বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক দক্ষতারও পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।