ইরানে টানা দুই সপ্তাহের সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অর্থনীতি ঘুরে দাঁড় করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার জনগণের কথা শুনতে চায় এবং চলমান সংকট কাটাতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে, তবে সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, কিছু গোষ্ঠী আন্দোলনকে সহিংস পথে নিতে চাচ্ছে, যা পুরো সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
গত ডিসেম্বরের শেষে মুদ্রার বড় পতনের পর নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্ষোভ শুরু হয়। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় মানুষের ক্ষোভ ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। প্রেসিডেন্ট বলেন, মানুষের উদ্বেগ বাস্তব, তাই আলোচনা ও সমাধান জরুরি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, অভিযানে অন্তত ৫১ জন বিক্ষোভকারী মারা গেছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানান, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মেনে নেওয়া হবে, তবে সহিংস গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চলবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ হলে তার জবাব দেওয়া হবে।
সরকার বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে, যদিও অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে এবং ব্যাপক ধরপাকড় চলছে।