যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গতকাল রাতেই ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ফোর্ডো, নতাঞ্জ ও ইসফাহান। ইরান সরকার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এখনো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেনি। এ ঘটনার পর ইরান কড়া ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে এবং প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি হামলাকে ঘিরে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তিনি নিজে একটি নিরাপদ বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন এবং সকল ডিজিটাল যোগাযোগ স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি তিনজন শীর্ষ আলেমকে উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনায় এনেছেন, যেখানে তাঁর পুত্র মুজতবা খোমেনিকে বাদ রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনীকেও আন্ডারগ্রাউন্ড কমান্ড সেন্টার থেকে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ দেশটির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কাকে ইঙ্গিত করছে।
পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে ইরান এখনো আগের মতোই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউরোপীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, ইরান ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি অনুযায়ী ৩.৬৭ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ফিরতে রাজি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে একেবারে শূন্য শতাংশে নামার কোনো সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, যতদিন ইসরায়েল তাদের বিমান হামলা বন্ধ না করছে, ততদিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হবে না।
সামরিক দিক থেকেও ইরান কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে। ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কিছু অংশ ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার ফলে সেনা ঘাঁটিগুলোকে পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরান যদিও ইসরায়েলের দিকে ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে (গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪০টি ড্রোন ছোঁড়া হয়েছে), এখন পর্যন্ত কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়নি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভেনেজুয়েলা ও কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব পুরো পরিস্থিতিকে “গুরুতর উত্তেজনাকর” বলে মন্তব্য করেছেন এবং সব পক্ষকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন কিছু সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হুথি বা হিজবুল্লাহর মাধ্যমে প্রক্সি হামলা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা, এবং জাতিসংঘে কূটনৈতিক প্রচারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও আন্তর্জাতিকভাবে চাপে ফেলা।