তামিল সিনেমার জনপ্রিয় তারকা থালাপতি বিজয়, আসল নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। ‘থালাপতি’ মানে নেতা বা সেনাপতি—এই পরিচয়েই তিনি দর্শকের কাছে সুপরিচিত। সিনেমার পর্দা পেরিয়ে এবার তিনি বাস্তব রাজনীতির ময়দানে নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন।
২০১৮ সালের ‘সরকার’ সিনেমায় ভোটাধিকার নিয়ে এক সাধারণ নাগরিকের প্রতিবাদের গল্প ফুটে উঠেছিল, যা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রায়। পর্দার সেই বার্তা এবার বাস্তব জীবনের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
নিজের গড়া রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগম’ (টিভিকে) নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নেন। ২৩৪ আসনের মধ্যে তার দল ১০৭টি আসনে জয় পায়। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনে না পৌঁছালেও এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে টিভিকে। ২০২৪ সালে গঠিত এই দলটি অল্প সময়েই শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়।
রাজনীতিতে আসার পর থেকেই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা আলোচনায় ছিলেন এই তারকা। স্ত্রী সঙ্গীতা স্বর্ণালিঙ্গমের সঙ্গে বিচ্ছেদ মামলা এবং সহ-অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন তাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি করে। পাশাপাশি তার শেষ সিনেমা ‘জনা নায়াগান’ নিয়েও অনলাইন ফাঁসের ঘটনা আলোচনায় আসে।
এসব চ্যালেঞ্জের মাঝেও তিনি চলচ্চিত্র জগত থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোযোগ দেন। প্রায় ৭০টি সিনেমায় অভিনয়ের পর তিনি মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেন। তার এই অবস্থান সমর্থকদের কাছে তাকে আরও বাস্তব ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে থালাপতি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হলে প্রায় ৪৯ বছর পর তামিলনাড়ু আবার একজন চলচ্চিত্র তারকাকে শীর্ষ প্রশাসনিক পদে পাবে। এর আগে ১৯৭৭ সালে এম জি রামচন্দ্রন এই ইতিহাস তৈরি করেছিলেন, পরে জয়ললিতা রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে ক্ষমতায় আসেন।
সিনেমার নায়ক থেকে রাজনীতির সম্ভাব্য শীর্ষ নেতা—বিজয় কতটা জনসমর্থন ধরে রাখতে পারেন, সেটাই এখন তামিলনাড়ুর সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।