চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পরও পুরোপুরি সুস্থ না হয়েই বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন মির্জা আব্বাস। শারীরিক অবস্থার কারণে হুইলচেয়ারে বসেই তিনি সংসদে নিজের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
স্বাগত বক্তব্য দেওয়ার জন্য স্পিকার তার নাম ঘোষণা করলে মির্জা আব্বাস বক্তব্য শুরু করেন। একপর্যায়ে নিজের দীর্ঘ অসুস্থতা ও দুই দশক পর সংসদে ফিরে আসার কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে এবং সংসদকক্ষে নীরব পরিবেশ তৈরি হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সংসদে ফিরে আসার এই দিনটি তার জীবনের স্মরণীয় একটি দিন।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের পর প্রায় দুই দশক পেরিয়ে আবার সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে এর চেয়ে আনন্দ ও গর্বের মুহূর্ত আর কী হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা আব্বাস।
অসুস্থতার সময় প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিয়মিত তার খোঁজখবর নিয়েছে বলে জানান তিনি। স্পিকারও তাকে দেখতে গিয়েছিলেন উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, সবার আন্তরিকতা ও সহানুভূতি তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে আরও আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে তার একটাই প্রার্থনা, যেন তিনি আবার জনগণের জন্য কাজ করতে পারেন।
সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, তাদের ভালোবাসা ও দোয়া তার কঠিন সময় পার করার সাহস জুগিয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর সংসদে ফিরে তিনি বলেন, ২০০৬ সালের পর আবার এই সংসদে দাঁড়িয়ে তার মনে হচ্ছে তিনি যেন আবার মানুষের মাঝে ফিরে এসেছেন।
সবশেষে দেশবাসী ও সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া চেয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, জীবন থাকলে তিনি যেন দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারেন, আল্লাহর কাছে এটাই তার কামনা।