নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন এবং দক্ষিণাঞ্চল শাখার মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এই কমিটি অনুমোদন করেন। এতে প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক শামছল তিব্রিজ।
এনসিপির দপ্তর বিভাগ থেকে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। কমিটিতে ১৭ জন যুগ্ম সমন্বয়কারী এবং ৩৩ জন সাধারণ সদস্যকে রাখা হয়েছে। এই কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন মাস বা নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত।
যুগ্ম সমন্বয়কারীদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দীন, হুমায়রা আক্তার পহেলী, প্রফেসর বাকের বিল্লাহ, ডা. তানিয়া সুলতানা, প্রফেসর মফিজ উদ্দীন আহমেদ, শহীদুল্লাহ সুজন, ফুয়াদ উদ্দীন, মাস্টার মোশাররফ হোসেনসহ আরও কয়েকজন। সদস্য পদে যুক্ত আছেন মাস্টার আনোয়ার হোসেন, আমীনুল ইসলাম শামীম, ডা. আব্দুল জলিল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার গোলাম মাওলা, অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান রাশেদ, আমেনা বেগম, রাশেদ উদ্দীন (সাদেক আলী) ও রোজিনা আকতারসহ অনেকেই।
তবে কমিটি গঠনের পর থেকেই এনসিপির স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এই কমিটিকে ‘হান্নান মাসউদের আত্মীয়স্বজনের পদায়ন’ এবং ‘আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠদের পুনর্বাসন প্রকল্প’ বলেও মন্তব্য করেছেন। দলীয় ঘরানার বাইরে থাকা একাধিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করায় কমিটির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দক্ষিণাঞ্চল শাখার মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এর আগে কক্সবাজার ভ্রমণ ইস্যুতে রাজনৈতিক পর্ষদকে না জানিয়ে কাজ করায় তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে এনসিপির কেন্দ্রীয় দপ্তর। সেই বিতর্কের মধ্যেই এই কমিটিতে তার স্বাক্ষর থাকা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিপির কোনো কেন্দ্রীয় নেতা এখনো প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। তবে নেতাকর্মীদের অনেকেই বলছেন, “কমিটিকে আরও পরিশোধিত, প্রতিনিধিত্বশীল ও সাংগঠনিকভাবে গ্রহণযোগ্য করা না হলে ভবিষ্যতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে।”